সংকল্পপত্র

১. পশ্চিমবঙ্গ: "সোনার বাংলা" গড়ার বিস্তারিত অঙ্গীকার

বিজেপির এবারের নির্বাচনী প্রচারের মূল সুর হলো "পরিবর্তন ও সুশাসন"। রাজ্য সরকারের বর্তমান প্রকল্পগুলোর বিকল্প এবং আরও উন্নততর মডেল সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

ক) মহিলা ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা

বিজেপি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সমতুল্য বা তার চেয়েও আকর্ষণীয় কোনো প্রকল্প আনার পরিকল্পনা করছে।

  • আর্থিক সহায়তা: শোনা যাচ্ছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য এই অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে।

  • ৫,৭০০ কোটির প্যাকেজ: এই বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self Help Groups) মহিলাদের বিনা সুদে ঋণ এবং ক্ষুদ্র কুটির শিল্প স্থাপনে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

  • বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও: কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পের অধীনে কন্যা সন্তানদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষ স্কলারশিপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতে পারে।

 

খ) শিল্পায়ন ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান

"চাকরির জন্য ভিনরাজ্যে পরিযান বন্ধ করা" বিজেপির অন্যতম প্রধান স্লোগান।

  • ভারী শিল্প পুনরুজ্জীবন: সিঙ্গুর বা হলদিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতে নতুন করে বড় মাপের ম্যানুফ্যাকচারিং হাব তৈরি করা।

  • আইটি ও স্টার্টআপ: রাজারহাট-নিউটাউন সংলগ্ন এলাকায় সিলিকন ভ্যালি স্টাইলের আইটি পার্ক তৈরি করে কয়েক লক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

  • স্কিল ইন্ডিয়া মিশন: প্রতিটি জেলায় ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন যাতে স্থানীয় যুবকরা হাতে-কলমে কাজ শিখে আত্মনির্ভর হতে পারে।

 

গ) কৃষক কল্যাণ ও কৃষি-শিল্প সমন্বয়

কৃষকদের ক্ষোভ প্রশমনে বিজেপি একগুচ্ছ বৈপ্লবিক পদক্ষেপের কথা বলছে।

  • জমির নায্য মূল্য: শিল্পায়নের জন্য কৃষকের জমি নিলে বাজারদরের অন্তত ৩ গুণ দাম নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট কারখানায় জমির মালিকের পরিবারের একজনের কর্মসংস্থান বা শেয়ার দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা।

  • পিএম কিষাণ নিধি: কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া টাকা সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বোনাস ঘোষণা করা।

  • হিমঘর ও ফুড প্রসেসিং: কৃষিপণ্য নষ্ট হওয়া আটকাতে ব্লকে ব্লকে হিমঘর এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরি।

 

ঘ) অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নিরাপত্তা ও এনআরসি প্রসঙ্গ

সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিজেপির প্রধান ইস্যু হলো অনুপ্রবেশ ও জাতীয় সুরক্ষা।

  • স্মার্ট ফেন্সিং: বাংলাদেশ সীমান্তে অত্যাধুনিক সেন্সর-যুক্ত বেড়া বা 'স্মার্ট ফেন্সিং' বসানোর কাজ দ্রুত শেষ করা।

  • জাতীয় নিরাপত্তা গ্রিড: সীমান্ত অপরাধ, পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ-এর সাথে সমন্বয় রেখে একটি শক্তিশালী টাস্ক ফোর্স বা নিরাপত্তা গ্রিড তৈরি করা।

  • নাগরিকত্ব (CAA): মতুয়া ও অন্যান্য উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের জন্য সিএএ-র মাধ্যমে দ্রুত নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি।

 

ঙ) সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ (DA) এবং বেতন কাঠামোর অসঙ্গতি দূর করা বিজেপির অন্যতম তুরুপের তাস।

  • ৭ম বেতন কমিশন: ক্ষমতায় আসার প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার প্রতিশ্রুতি।

  • শূন্যপদ পূরণ: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগে পড়ে থাকা কয়েক লক্ষ স্থায়ী শূন্যপদ স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণ করা।