ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল" (Once upon a time in West Bengal) বলতে সাধারণত ২০২১ সালের ভারতীয় বাংলা ড্রামা চলচ্চিত্র 'ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ক্যালকাটা'-কে বোঝায়, যার পরিচালক আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ৭৮তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এই ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়, যেখানে এটি ছিল প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে থাকা একমাত্র ভারতীয় চলচ্চিত্র। পরবর্তীতে, ২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এটি ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।
কাহিনী: বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত এই গল্পটি এলা-কে (শ্রীলেখা মিত্র অভিনীত) কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, যিনি একজন সন্তানহারা মা। দ্রুত পরিবর্তনশীল কলকাতার প্রেক্ষাপটে তিনি নিজের স্বাধীনতা এবং এক নতুন পরিচয়ের সন্ধান করছেন।
অভিনয়শিল্পী: এই ছবিতে অভিনয় করেছেন শ্রীলেখা মিত্র, অরিন্দম ঘোষ, ব্রাত্য বসু, সত্যজিৎ সরকার, অনির্বাণ চক্রবর্তী এবং সায়ক রায়।
মূল উপজীব্য: ছবির মূল থিমগুলোর মধ্যে রয়েছে শহরের অবক্ষয়, ঐতিহ্য ও আধুনিকায়নের সংঘাত এবং কলকাতার আত্মপরিচয় নিয়ে সামাজিক ভাষ্য।
পুরস্কার: ২০২২ সালের নিউ ইয়র্ক ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এটি সেরা পরিচালনা (আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত) এবং সেরা অভিনেত্রীর (শ্রীলেখা মিত্র) পুরস্কার জেতে। এছাড়াও, ২০২৬ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (WBFJA) অ্যাওয়ার্ডসে এটি সেরা চলচ্চিত্রের সম্মান পায়।
ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন কলকাতা (২০১৪): শতরুপা সান্যাল পরিচালিত একটি সম্পূর্ণ আলাদা বাংলা থ্রিলার ছবি, যাতে অভিনয় করেছেন ওম এবং ঋতাভরী চক্রবর্তী।
জুনুন: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ক্যালকাটা (২০১৭): IMDb-তে থাকা একটি রাজনৈতিক থ্রিলার, যার কাহিনী একজন কমিউনিস্ট নেতা এবং একজন সাংবাদিককে কেন্দ্র করে।
পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও সংস্কৃতি হলো প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্য এবং 'বাংলার নবজাগরণ'-এর বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকারের এক প্রাণবন্ত মিশেল। ভারতের "সাংস্কৃতিক রাজধানী" হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যটি তার বিশ্বখ্যাত সাহিত্য এবং পথপ্রদর্শক চলচ্চিত্রের জন্য সমাদৃত।
এবং জটিল হস্তশিল্প যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বিবর্তনের প্রতিফলন ঘটায়।
গভীরভাবে প্রোথিত লোকশৈলীকে রক্ষা করার পাশাপাশি ভারতীয় শিল্পকলা আধুনিকীকরণে এই রাজ্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
বেঙ্গল স্কুল অফ আর্ট: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই আন্দোলন বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ভারতীয় শিল্পশৈলীকে পুনরুজ্জীবিত করেছিল, যা নন্দলাল বসু এবং যামিনী রায়ের মতো শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
পটুয়াচিত্র: মেদিনীপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী বর্ণনামূলক স্ক্রোল পেইন্টিং (পটচিত্র), যেখানে শিল্পীরা (পটুয়া) পট খোলার সাথে সাথে গান গেয়ে গল্প শোনান।
কালীঘাট পেইন্টিং: ১৯ শতকের কলকাতায় উদ্ভূত এই শৈলীটি তার বলিষ্ঠ রেখা এবং দৈনন্দিন জীবন ও দেবদেবীর ব্যঙ্গাত্মক চিত্রায়নের জন্য পরিচিত।
বাংলার বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচয় একটি সমৃদ্ধ সাহিত্যিক এবং চলচ্চিত্রিক ভিত্তির ওপর নির্মিত।
সাহিত্য: নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই জন্মভূমি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং কাজী নজরুল ইসলামের মতো মহীরুহদের উত্তরসূরি হিসেবে গর্বিত।
চলচ্চিত্র (টলিউড): অস্কার বিজয়ী সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক এবং মৃণাল সেনের হাত ধরে শুরু হওয়া "আর্ট ফিল্ম" ঐতিহ্যের জন্য এটি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।
থিয়েটার: এর মধ্যে রয়েছে প্রাচীন লোকনাট্য 'যাত্রা' এবং কলকাতার সমৃদ্ধ সমসাময়িক গ্রুপ থিয়েটার চর্চা।
আধ্যাত্মিক মরমী সাধনা থেকে শুরু করে উৎসবের আনন্দ—সংগীত বাঙালির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বাউল গান: একটি অনন্য মরমী সংগীত ধারা যা ইউনেস্কো (UNESCO) কর্তৃক 'Intangible Cultural Heritage' হিসেবে স্বীকৃত।
ছৌ নাচ: মূলত পুরুলিয়ার একটি শক্তিশালী মুখোশ নৃত্য-নাট্য, যাতে যুদ্ধকলার প্রভাব রয়েছে।
রবীন্দ্রসংগীত: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত হাজার হাজার গান, যা বাঙালি সংস্কৃতির আবেগীয় পটভূমি তৈরি করে।
বাংলার অনেক হস্তশিল্প 'জিআই' (GI) ট্যাগ প্রাপ্ত, যা তাদের সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে চিহ্নিত করে।
টেরাকোটা (পোড়ামাটি): বাঁকুড়ার ঘোড়া এবং বিষ্ণুপুরের মন্দিরের সূক্ষ্ম স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত।
ডোকরা: কর্মকার সম্প্রদায়ের দ্বারা চর্চিত একটি প্রাচীন 'লস্ট-ওয়াক্স' ধাতু ঢালাই পদ্ধতি।
বস্ত্রশিল্প: জামদানি, বালুচরী এবং তাঁতের শাড়ির পাশাপাশি সূক্ষ্ম কাঁথা স্টিচের কাজের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
দুর্গাপূজা: রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যা সম্প্রতি (২০২১ সালে) ইউনেস্কোর 'Intangible Cultural Heritage' তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
খাদ্য: মাছ ও ভাতের প্রতি ভালোবাসা এখানকার খাবারের প্রধান বৈশিষ্ট্য। আইকনিক 'মাছের ঝোল' এবং বিশ্বখ্যাত মিষ্টি যেমন 'রসগোল্লা' ও 'মিষ্টি দই' এর জন্য বাংলা বিখ্যাত।