গত ৭৭ বছরের ইতিহাস

১৭৭২ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত কলকাতা ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে এটি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল, যা ছিল শহরটিকে রাজধানী হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রাথমিক কারণ।

শহরটিকে রাজধানী হিসেবে নির্বাচনের পেছনে বেশ কিছু মূল কারণ কাজ করেছিল:

  • অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: সেই সময়ে বাংলা ছিল ভারতের সবচেয়ে ধনী প্রদেশ। এই অঞ্চল থেকে ব্রিটিশরা বিপুল পরিমাণ কর আদায় করতে পারত, যা পুরো উপমহাদেশে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তারে অর্থ জুগিয়েছিল।

  • কৌশলগত সামুদ্রিক অবস্থান: হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় কলকাতা বাণিজ্য ও নৌ-অভিযানের জন্য এক আদর্শ বন্দর ছিল। এর নদীপথের সংযোগ ইউরোপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে পণ্য আনা-নেওয়ার কাজ সহজ করে তুলেছিল।

  • বিদ্যমান অবকাঠামো: ১৭৭২ সালের মধ্যেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতায় শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছিল এবং ফোর্ট উইলিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ করেছিল, যা শহরটিকে প্রশাসনিক সদর দপ্তর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যৌক্তিক করে তোলে।

  • রাজনৈতিক আধিপত্য: নবাব সিরাজ-উদ্দৌলার মতো স্থানীয় শাসকদের পরাজিত করার পর, ব্রিটিশদের জন্য এমন একটি অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করা সহজ ছিল যেখানে তাদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব ছিল।

১৭৭২ সালে প্রথম গভর্নর-জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করেন। কালক্রমে এর বিশাল বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে শহরটি লন্ডনের পর "ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় শহর" হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

পরবর্তীতে ১৯১১ সালে রাজধানী দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়। বাংলার ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং ভারতবর্ষের আরও কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ আসন থেকে শাসন করার ইচ্ছা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।